Oct 23, 2019

ইন্টারনেট থেকে টাকা আয়ের ৭টি সহজ উপায়

বর্তমানে ইন্টারনেটের সাথে বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকার মানুষ সমান ভাবে পরিচিত। বাংলাদেশের এই সময়ে ইন্টারনেট খুব পরিচিত একটা নাম। তাই ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত সবাই জেনে থাকবেন যে ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। অনেকেই জানেন না যে, কিভাবে ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম। করবেন। অথবা আধু কি ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এই বিষয়টা সম্পর্কে খুব একটা পরিষ্কার ধারণা সবার নেই। যার কারণে ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম করতে গিয়ে অনেক সময় তারা তাদের অর্থ ও সময় নষ্ট করেন।

আজকে আমি আপনাদের জন্য ১০টি সহজ ইন্টারনেট থেকে ইনকামের উপায় নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। যা থেকে ইন্টারনেট থেকে আয় করা উপায় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারবে।

১. ব্লগে লেখালেখি করে টাকা আয়।

লেখালেখির হাত যদি আপনার সুন্দর হয়। যেকোনো বিষয়কে সুন্দর করে উপস্থাপন করার দক্ষতা যদি আপনার মাঝে থাকে। তাহলে ব্লগিং বা লেখালেখি আপনার জন্য পারফেক্ট অপশন হবে ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করার। ইন্টারনেটে অনেক ব্লগিং ওয়েবসাইট আছে যারা লেখার বিনিময়ে আপনাকে টাকা দিবে। যেমন - ট্রিকবিডি, টেকটিউনস । অথবা যে কোন ব্লগ সাইটে নিয়মিত লেখক হিসাবে যুক্ত হলে, যারা প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সম্মানী হিসেবে প্রদান করবে।

এছাড়াও আপনি নিজের ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরী করে ইন্টারনেট থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নিজের ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরী করতে কিছু টাকা ব্যয় করতে হবে। যদিও এই ব্যাপারটা অনেকের কাছে সহজ মনে হবে না। কারণ ব্লগিং করে খুব সহজে ইনকাম করা যায় না। যদি আপনার লেখার মান ভালো না হয়। তাহলে এই ব্লগিং নিয়ে না ভাবাই উত্তম। কারণ এ পথে সফলতার জন্য প্রচুর পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

২. ইউটিউব থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয়।

বর্তমান সময়ে ইউটিউব খুব পপুলার একটি নাম। ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত সবাই এই নামটি জানেন। ইউটিউব মূলত একটি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি আপনার নিজের চ্যানেল খুলে ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। যার মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ৬৭ শতাংশ ইউটিউব আপনাকে দিবে।

এর জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর সেখানে ভালো মানের কিছু ভিডিও আপলোড করতে হবে। তারপর এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। এডসেন্স পেতে হলে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার 4000 হতে হবে ও ওয়াচ টাইম ৪হাজার ঘন্টা হতে হবে।

এক্ষেত্রে ভালো মানের ভিডিও যারা ইউটিউবে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। সুন্দর কনসেপ্ট, ভালো এডিটিং জ্ঞান থাকতে হবে। অন্যতায় ইউটিউবে সফল হওয়া যায় না। এখনথেকে কত টাকা আয় করতে পারবেন তা নির্ভর করবে আপনার ভিডিওয়ের উপর। ইউটিউব থেকে হাজার দশেক থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকাও উপার্জন করা যায়।

৩. ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে টাকা আয়।

বর্তমানে অলিগলিতে ফ্রিল্যান্সিং কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন। ঘরে বসে আয় করুন, ঘরে বসে আয় করুন লাখ টাকা ইত্যাদি শ্লোগান এ লেখা বড় বড় ব্যানার অনেকের চোখে পড়েছে। ফ্রিল্যান্সিং মানে খুব সহজ একটা বিষয় তা নয়। এসব কোচিং সেন্টার যেভাবে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ফ্রিল্যান্সিং আসলে সেরকমটা মুটেও নয়।

ফ্রিলেন্সিং করতে গেলে আপনার নির্দিষ্ট একটি বিষয় সম্পর্কে কাজ জানতে হবে। যেমন- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, এসইও, সোসিয়াল মার্কেটিং ইত্যাদি। কেননা কাজ করলেই সেখান থেকে আপনি টাকা পাবেন। কাজ না করতে পারলে টাকা পাবেন না বা আপনাকে কেউ টাকা দিবে না। এজন্য কাজ শিখতে হবে। কি কাজ শিখবেন ? কোন ধরনের কাজ শিখবেন। উল্লেক্ষিত প্রশ্নেদ্বয়ের উত্তর আপনার নিজের উপর ডিপেন্ড করে। আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন কাজের মধ্যে কোন কাজ পছন্দ করেন বা কোন কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার উপর ভিত্তি করে আমাকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

আমি এখানে ধরে নিলাম আপনি গ্রাফিক ডিজাইন পছন্দ করেন। তাহলে আমি বলব আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখুন তারপর ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এবিষয়ে একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। এক্ষেত্রেও বরাবরের মতো আপনার ধৈর্যশীলতা কাজে লাগবে। কারণ মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খোলার সাথে সাথেই আপনি কাজ পেতে শুরু করবেন না। হয়তো কাজ পাওয়ার আগেই আপনার ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছাশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। নতুনদের মার্কেটপ্লেসে প্রথম দিকে কাজ পেতে অনেক বেগ পেতে হয়।

৪. এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে টাকা আয়।

যদি আপনি অনলাইন ইনকাময়ের বিষয়ে খুব বেশি সিরিয়াস এবং আপনি হার্ডওয়ার্কিং পছন্দ করেন। তাহলে আপনার জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন থেকে টাকা আয়ের বেস্ট অপশন হবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং হল বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইটের প্রোডাক্ট প্রমোট করা। বর্তমানে চারদিকে অনলাইন শপিং সাইটের জয়জয়কার। যেমন- আমাজন, ফ্লিকআট, ইবেয়, ক্লিকব্যাংক, সিজে ইত্যাদি। এই অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটগুলোতে একাউন্ট করে, তাদের পণ্যের প্রচার করতে পারে ৪% থেকে ২০% কমিশন পেতে পারেন। মানে আপনি যত বেশি সেল করতে পারবেন তত বেশি কমিশন বা টাকা পাবে।

৫. অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে টাকা।

বর্তমানে প্রায় সবকিছুই অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়। অনেকে অনলাইন থেকে পণ্য বা সেবা কি করতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ কারণে বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে অনেক অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট গড়ে উঠেছে। আপনিও চাইলে আপনার শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এজন্য আপনি ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন। অথবা নিজেই নিজের শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।

৬. স্মার্টফোনের মাধ্যমে টাকা আয়।

স্মার্টফোন দিয়ে খুব সহজে কিছু সিম্পল কাজ করে টাকা আয় করা যায়। আপনার স্মার্ট ফোন দিয়ে কিছু সহজ কাজ করে দৈনিক 200 থেকে 300 টাকা আয় করতে পারবেন। স্মার্টফোনের মাধ্যমে অ্যাপস দিয়ে সিম্পল কিছু কাজ করে টাকা ইনকাম করা যায়। যেমন- অ্যাপস ইনস্টল করা, গেম খেলা, ভিডিও দেখা ইত্যাদি।

৭. লিংক শেয়ারের মাধ্যমে টাকা আয়।

লিংক শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা আয় করা যায়। যেমন- মভি লিনক, অ্যাপ লিংক, ভাইরাল সেলিব্রিটি ভিডিও ক্লিপ লিংক ইত্যাদি। এইসব লিংক কালেক্ট করে ফেসবুকে ব্লগে অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার শেয়ার করে টাকা আয় করা যায়।

এই লিংক শেয়ারিং এর মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন মভি ডাউনলোডের ওয়েবসাইট গুলো আয় করে থাকে। এভাবে আপনিও চাইলে মুভি ডাউনলোডের ওয়েবসাইট তৈরি করে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। তবে আপনার যদি মুভি ও অ্যাপস ডাউনলোডের ওয়েবসাইট না থাকে তাহলেও সমস্যা নেই। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ব্লগের অনেকেই অনেক মুভির ও অ্যাপসের লিঙ্ক খুঁজে, সেখানে আপনি আপনার লিঙ্ক কমেন্ট করে অথবা নতুন পোস্ট করে শেয়ার করে আয় করতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment

মন্তব্য সম্পূর্ণ বাংলায় লিখুন