কিভাবে মাত্র ৫ ধাপে ৮০% অর্গানিক এসইও ট্রাফিক (Organic SEO traffic) বৃদ্ধি করবেন

এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল
একটা ওয়েব সাইট / ব্লগের প্রাণ হল ট্রাফিক বা ভিজিটর। তাই ওয়েব সাইট ব্লগের জন্য ভিজিটর বা ট্রাফিক খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ওয়েব সাইট মূলত তৈরি করা হয় ভিজিটরদের জন্য। ধরেন আপনি একটা পার্সোনাল ব্লগ তৈরি করে সেখানে লেখালেখি করেছে। এখন যদি সেখানে ভিজিটর বা পাঠক না থাকে, তাহলে আপনার এত কষ্ট করে লেখাগুলা কে পড়বে। তাহলে সব কষ্টের লেখা জলে!
তাই জলধি দেখে নিন, খুব সহজে মাত্র ৫টি ধাপে ৮০% অর্গানিক এসইও ট্রাফিক (Organic SEO traffic) বৃদ্ধি করবেন।



ধাপ #১ঃ অপ্রয়োজনীয় ও মরা পেইজ বা পুষ্টগুলা ডিলিট করেন

গুগল থেকে বলা হয়েছে, যেসব সাইটে বড় পরিমাণের অপ্রয়োজনীয় ও মরা পেইজ রয়েছে তাদের সাইটে SEO তে খারাপ প্রভাব পরবে। এখানে মরা পেইজ বলতে, যে পেইজ গুলাতে একদমই ভিজিটর আসে না ও পেইজগুলা সার্চ রেজাল্টে Impression নাই বা পেইজটি ভিজিটরদের জন্য কোনো কাজে আসে না এমন পেইজ।

স্বল্প কোয়ালিটি ও অপ্রয়োজনীয় পেইজ সাইটে যুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। এই ধরণে পেইজগুলা শুধু স্পেসের উপচয় করব। মূল কথা, আপনি ঐ সব পেইজে কোনো ট্রাফিকও পাবেন না। আর ট্রাফিক বা ভিজিটর না পান তাহলে ঐ সব পেইজ তৈরি কতে লাভ কি?

একারণে, প্রতিটি পেইজ বা পুষ্ট সুন্দর করে তৈরি করেন। এর জন্য ৩টা পেইজ বা পুষ্ট তৈরির সময় দিন ১টা পুষ্টেই। অনেকেরই ধারণা থাকে যত বেশি পেইজ বা পুষ্ট হবে, তত বেশি ট্রাফিক আসবে এ ধারনা ভুল। মাত্র ৩০ টা পুষ্ট দিয়েও হাজার হাজার ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব যদি পেইজ বা পুষ্টগুলা কোয়ালিটির দিকে লক্ষ্য রেখে তৈরি করে। তাই কোয়ালিটি বা গুণাগুণ হল মূল রাজা। একারণে আপনার সাইটের প্রতিটা পেইজ ১০০% গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেন।

এজন্য





ধাপ #২ঃ সাইটের ভেতরের সমস্যা ও ইরর গুলা ঠিক করেন।

ডুপ্লিকেট অথবা মিসিং টাইটেল ট্যাগ, ডুপ্লিকেট ডেসক্রিপশন ট্যাগ, ব্রোকেন লিংক, ছবির মিসিং Alt ট্যাগ, Robots.txt দিয়ে ব্লক পেইজ, ৩০২ রিডাইরেক্ট কোড যেখানে ৩০১ হবে এগুলা ঠিক করতে হবে। এগুলাকে মূলত ইংরেজি বলে এসইও টেকনিক্যাল ইস্যু অর ইরর (SEO technical issues or error)।

এই ইস্যু গুলা ঠিক করতে WordPress সাইট হলে অনেক টুলস আছে। যেগুলা ব্যবহার করে মিসিং ছবি Alt ট্যাগ, ব্লকের লিংক, ডেসক্রিপশন ও টাইটেল ডুপ্লিকেট সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। বিশেষ করে ডেসক্রিপশন ও টাইটেল ডুপ্লিকেট সমস্যা সব সাইটে থাকে না। তবে ছবির Alt ট্যাগ ও ডেসক্রিপশন মিসিং থাকে। এগুলা WordPress Plugin দিয়ে ঠিক করা যায়। আর আপনার সাইট WordPress না হয় তাহলে গুগলে অনলাইন SEO Tools পাবেন। যেখানে গিয়ে ওয়েব সাইটের লিংক দিলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সহজেই সমাধান করতে পারবেন।



ধাপ #৩ঃ অনপেজ এসইও জন্য প্রধান প্রধান পেইজ বা পুষ্টগুলা ১০০% অপটিমাইজ করেন।

অনেকেই মনে করে সাইটের পেইজ বা পুষ্ট গুলা অপটিমাইজ করতে প্রায় মাস লেগে যাবে। এজন্য তারা কোনো পেইজই অপটিমাইজ করে না। অনেকে বলেন, আমার সাইটের ১০০০+ পেইজ আছে আমি কিভাবে এত বেশি পেইজ অপটিমাইজ করব? হ্যা। তার জন্য প্রায় মাস খানেক সময় লাগবে। তাই বলে বসে থাকলে কিছু হবে না, প্রতিটা পেইজের আলাদাভাবে অনপেইজ এসইও করতে হবে। তাহলে প্রতিটা পেইজ বা পুষ্ট পেইজ অপটিমাইজ না করে প্রথম ১০ টা পেইজের কাজ করেন। তারপর আবার ১০ টা করেন। প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ পেইজ গুলা পূর্বে অনপেইজ এসইও অপটিমাইজেশন করেন।

ধাপ #৪ঃ CTR এর জন্য অপটিমাইজ করেন।

Click-through-rate (CTR) হল সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইটের ইম্প্রেশনের কত পার্সেন্ট ক্লিক হয়েছে তার হিসাব।

আমার মনে হয়, গুগল CTR ব্যবহার করে তাদের রেজাল্ট দেখায় বা রেংক করে এবিষয়ে কারু সন্দেহ নেই।

তার এর জন্য সাইটে আকর্ষণীয় টাইটেল ও ডেসক্রিপশন যুক্ত করতে হবে। এই দুইটা জিনিস দেখেই মূলত রেজাল্ট আসা পেইজের জন্য ভিজিটররা ক্লিক করে। তবে হ্যা টাইটেল যেন - "ছিরে গেল শাঁবনূরের পায়জামা" - পুষ্টের ভেতরে গিয়ে পড়ে দেখা গেল শাঁবনূরের নাচের জন্য রাখা পায়জামা ছিরে গেছে, গাঁয়ের পায়জামা ছিরে নি। এই ধরণের টাইটেল দিবেন না। এই ধরণের টাইটেল দিলে, প্রথমে ভাল রেজাল্ট পেলেও পড়ে খারাপ প্রভাব পড়বে। টাইটেল মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হওয়া আবশ্যক।



ধাপ #৫ঃ সাইট লোডিং স্পিড বৃদ্ধি করেন

সাইটের লোডিং স্পিড একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। যেসব সাইটের লোডিং স্পিড বেশি বা দ্রুত লোড হয় সে সব সাইটের র‍্যাংকিং পেতে খুব সহজ হয়। তাই ভাল সার্ভারে সাইট হোস্ট করেন। ফ্রি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ব্লগার ভাল স্পিডের জন্য। গুগল স্পিড ইনসাইড টুলস দিয়ে স্পিড পরীক্ষা করতে পারেন। ভাল সার্ভারে এ সাইট হোস্ট করার পাশাপাশি একটি ভাল ফাস্ট লোডিং থিম থাকতে হবে। থিম ভাল না হলে লোডিং খুব স্লো হয়ে পারে।

সর্বশেষ কথা: পরবর্তী পুষ্টে আরও বিস্তারিত এসইও গাইডলাইন / টিউটোরিয়াল নিয়ে আসব। এ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।